সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩

উদ্ভিদের প্রজনন অধ্যায়ের ক্লাস লেকচার

প্রজনন: যে জটিল প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার অনুরূপ প্রতিকৃতি বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বলে।

 

প্রজনন দুই প্রকার।

যথা-   ১. যৌন প্রজনন

২. অযৌন প্রজনন

 

১. যৌন প্রজনন: যে প্রজনন প্রক্রিয়া দুইটি ভিন্নধর্মী গ্যামেটের (পুং ও স্ত্রী) উৎপত্তি ও নিষেকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে যৌন প্রজনন বলে।

 

২. অযৌন প্রজনন: যে প্রজনন প্রক্রিয়া কোনো ধরণের গ্যামেটের উৎপত্তি বা নিষেক ছাড়াই সম্পন্ন হয় তাকে অযৌন প্রজনন বলে।

 

অযৌন প্রজনন দুই প্রকার:

১. স্পোর উৎপাদন

২. অঙ্গজ প্রজনন

 

স্পোর: বিভিন্ন অপুষ্পক উদ্ভিদ, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং প্রোটোজোয়া কর্তৃক সৃষ্ট, সাধারণত এক কোষী আনুবীক্ষনিক অযৌন জনন অঙ্গ যা অন্য কোনো জনন কোষের সাথে মিলিত না হয়েই নতুন বংশধর সৃষ্টি করতে সক্ষম, তাকে স্পোর বলে।

 

অঙ্গজ প্রজনন: কোনো ধরণের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনা প্রত্যঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে প্রজনন ঘটে তাকে অঙ্গজ প্রজনন বলে।

 

অঙ্গজ প্রজনন দুই প্রকার:

১. প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন: যে প্রজনন প্রক্রিয়া মানুষের কোনো রকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সম্পন্ন হয় তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন বলে।

 

২. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন:  মানুষ তার সুবিধার জন্য কৃত্রিম উপায়ে জীবের যে অঙ্গজ প্রজনন ঘটায় তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন বলে।

কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন দুই প্রকার।

যথা-   ১.  কলম

২. কাটিং

 

প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন চার প্রকার:

১. দেহের খন্ডায়ন: উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে, প্রতিটি খন্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবন যাপন শুরু করলে তাকে দেহের খন্ডায়নের মাধ্যমে প্রজনন বলে। উদাহরণ: Nostoc, Spirogyra 

২. মূলের মাধ্যমে: কোনো উদ্ভিদের নতুন বংশধর মূল হতে সৃষ্টি হলে তাকে মূলের মাধ্যমে প্রজনন বলে। উদাহরণ: সেগুন, পটল, মিষ্টি আলু।

 

৩. রূপান্তরিত কান্ডর মাধ্যমে: খাদ্য সঞ্চয়, প্রতিরক্ষা, ভারসাম্যরক্ষা প্রভৃতি কারণে উদ্ভিদের কান্ড রূপান্তরিত হলে এবং তা থেকে নতুন বংশধর সৃষ্টি হলে তাকে রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে প্রজনন বলে।

 

৪. পাতার মাধ্যমে: কোনো কোনো উদ্ভিদের পাতা হতে নতুন বংশধর সৃষ্টি হয়। একে পাতার মাধ্যমে প্রজনন বলে। উদাহরণ: পাথর কুচি।

 

বিভিন্ন প্রকার রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে প্রজনন নিম্নে দেয়া হল:

 

১. টিউবার: উদাহরণ: আলু                            

২. রাইজোম: উদাহরণ: আদা

৩. কন্দ: উদাহরণ: পিঁয়াজ, রসুন                  

. স্টোলন: উদাহরণ: কচু, পুদিনা

৫. অফসেট: উদাহরণ: কচু, পুদিনা                

৬. পর্ণকান্ড: উদাহরণ: ফণিমনসা

৭. বুলবিল: উদাহরণ: চুপড়ি আলু

 

ফুল: উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষায়িত রূপান্তরিত বিটপকে ফুল বলে।

 

একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ:

১. পুষ্পাক্ষ: ফুলের সবথেকে নিচের চওড়া স্তবক যার উপর ফুলের অন্যান্য স্তবক গুলো অবস্থান  করে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।

 

কাজ:

১. ফুলের অন্যান্য স্তবক গুলোকে ধারণ করা।

২. কান্ড বা বৃন্তের সাথে ফুলকে যুক্ত করা।

 

২. বৃতি: পুষ্পের সবচাইতে বাইরের বা নিচের দিকে অবস্থিত সবুজ এবং পাতার ন্যায় দেখতে স্তবকটিকে বৃতি বলে। বৃতির প্রতিটি অংশকে বৃত্যাংশ বলে। বৃত্যাংশগুলো যুক্ত থাকলে যুক্ত বৃতি আর যুক্ত না থাকলে বিযুক্ত বৃতি ফুল বলে।

 

কাজ:

১. মুকুল অবস্থায় পুষ্পের ভেতরের অংশগুলোকে বাইরের তাপ, শৈত বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে।

২. সবুজ বৃতি সালোক সংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে।

 

৩. দলমন্ডল: বৃতির ভেতরের দিকে অবস্থিত পুষ্পের দ্বিতীয় স্তবকটিকে দলমন্ডল বলে। দলমন্ডলের প্রতিটি অংশকে পাঁপড়ি বা দলাংশ বলে। প্রতিটি পাঁপড়ির উপরের দিকে চওড়া ও নিচের দিকে সরু হয়ে থাকে।

 

কাজ:

১. পুষ্পের অভ্যান্তরস্থ অঙ্গ গুলোকে রক্ষা করা।

২. গন্ধ ও রঙের সাহায্যে পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

 

৪. পুং স্তবক: দলমন্ডলের ভেতরের দিকে অবস্থিত উপরের থলির ন্যায় অংশ ধারণকারী ফুলের চতুর্থ স্তবক কে পুং স্তবক বলে। পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। প্রতিটি পুংকেশরের দুটি অংশ আেেছ, যথা-১. সরু সুতার ন্যায় দন্ড বা পুং দন্ড বা পরাগ দন্ড এবং ২.  দন্ডের মাথায় থলির ন্যায় পরাগধানী।

 

কাজ:

১. পরাগ রেণু তথা পুং জনন কোষ তৈরী করা।

২. পরাগ রেণুকে ছড়িয়ে দেয়া।

 

৫. স্ত্রী স্তবক: ফুলের পুং স্তবকের ভেতরের দিকে অবস্থিত পঞ্চম ও শেষ স্তবককে স্ত্রী স্তবক বলে। স্ত্রী স্তবকের প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলে। প্রতিটি গর্ভপত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত, যথা- ১. নিচের সামান্য স্ফীত অংশ ডিম্বাশয় বা গর্ভাশয় ২. গর্ভাশয়ের উপরের সরু সুতার ন্যায় গর্ভদন্ড এবং ৩. গর্ভ দন্ডের উপরের অংশ গর্ভ মুন্ড।

 

কাজ:

১. ডিম্বানু তথা স্ত্রী জনন কোষ সৃষ্টি করা।

২. গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।

          ফুলের স্তবক গুলোর মধ্যে পুং ও স্ত্রী স্তবক কে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক এবং অন্যান্য স্তবক গুলোকে সাহায্যকারী স্তবক বলে।

        যদি কোনো ফুলের সবগুলো স্তবক থাকে তাকে তবে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। আর যে কোনো একটি স্তবক অনুপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে।

         ফুলে যদি শুধু পুংস্তবক থাকে তকে তাকে পুরুষ ফুল বলে। আর যদি শুধু স্ত্রী স্তবক থাকে তবে তাকে স্ত্রী ফুল বলে। আর উভয় থাকলে তাকে উভলিঙ্গ ফুল বলে। সুতরাং সকল সম্পূর্ণ ফুলই উভলিঙ্গ ফুল।

 

পুষ্পমঞ্জরী: গাছের কোনো শীর্ষ মুকুল বা কাক্ষিক মুকুল হতে উৎপন্ন শাখার চতুর্দিকে ফুলগুলো একটি বিশেষ নিয়মে সাজানো থাকে। ফুল সহ পুরো শাখাটিকে পুষ্পমঞ্জরী বলে। পুষ্প মঞ্জরির বৃদ্ধি অসীম হলে তাকে অনিয়ত আর সসীম হলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরী বলে।

 

পরাগায়ন: পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর স্ত্রী স্তবকের গর্ভমুন্ডে পতিত হবার প্রক্রিয়াকে পরাগায়ন বলে।

পরাগায়ন দুই প্রকার:

যথা:    ১. স্ব- পরাগায়ন       

২. পর- পরাগায়ন

 

পরাগায়নের মাধ্যম: যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে।

 

পরাগায়নের মাধ্যম অনুসারে ফুল চার প্রকার:

                        যথা-   ১. পতঙ্গপরাগী ফুল   ২. বায়ু পরাগী ফুল

                                    ৩. পানি পরাগী ফুল ৪. প্রাণী পরাগী ফুল।

 

নিষিক্তকরণ:  একটি পুং গ্যামেট ও একটি স্ত্রী গ্যামেটের পরিপূর্ণ ভাবে মিলিত হবার প্রক্রিয়াকে নিষিক্তকরণ বলে।

 

ফল: নিষিক্তকরণের পর ফুলের গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে।

 

অঙ্কুরোদগম: বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ জন্মানো প্রক্রিয়াকে অঙ্করোদগম বলে।

 অঙ্কুরোদগমকে প্রধাণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: মৃদগত অঙ্কুরোদগম ও মৃদভেদী অঙ্কুরোদম।

বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩

লবণ নিয়ে কিছু কথা

অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দশম অধ্যায়ের নাম অম্ল, ক্ষারক ও লবণ। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই অধ্যায়ে লবণ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা করা নেই। তবে শিক্ষার্থ ীদৈর জেনে রাখার জন্য লবণ নিয়ে আল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ  কথা নিম্নে দেওয়া হলো। আশাকরি শিক্ষার্থীরা এগুলো ভালোকরে নোট করে রপ্ত করবে। 

এসিড অংশের ক্লাস লেকচার দেখতে

ক্ষারক অংশের ক্লাস লেকচার দেখতে

 লবণ: রসায়ন শাস্ত্রে লবণ একটি বিশেষ শ্রেণীর যৌগিক পদার্থ। লবণের সজ্ঞা দিতে গিয়ে আমরা বলতে পারি,-

“ এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ার ফলে ক্ষারকের ধাতু এসিডের হাইড্রোজেনের স্থান দখল করে যে নতুন নিরপেক্ষ ধর্মী যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন করে তাদেরকে লবণ বলে।” 

বা অন্য কথায় আমরা বলতে পারি-

 “ এসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ গঠন  করে তাকে লবণ বলে।”

লবণের প্রকারভেদ:

যে কোনো লবণের রাসায়নিক নাম সে লবণ উৎপাদনকারী এসিড ও ক্ষারকের নাম থেকে নেয়া হয়। লবণের নামের প্রথম অংশে থাকে ধাতুর নাম এবং শেষ অংশে থাকে এসিড মূলকের নাম।

১. হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণকে ক্লোরাইড লবণ বলে।

২. সালফিউরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণকে বলা হয় সালফেট লবণ।

৩. নাইট্রিক এসিডের লবণকে বলা হয় নাইট্রেট লবণ।

৪. কার্বনিক এসিডের লবণকে কার্বনেট লবণ বলা হয়।


অম্ল, ক্ষারক ও লবণ অধ্যায়ের ক্লাস লেকচার : পর্ব ২ ক্ষারক অংশ

অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দশম অধ্যায়ের নাম অম্ল, ক্ষারক ও লবণ। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ই অধ্যায়ের ক্ষারক অংশের ক্লাস লেকচার নিম্নে দেওয়া হলো। আশাকরি শিক্ষার্থীরা এগুলো ভালোকরে নোট করে রপ্ত করবে। 

পর্ব ১ এর লিংক

ক্ষারক: এসিডের বিপরীতধর্মী পদার্থগুলোকে ক্ষারক বলে। ক্ষারকের সজ্ঞা দিতে গিয়ে আমরা বলতে পারি,-

“ ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে।”



ক্ষার: যে সকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে ক্ষার বলে।


ক্ষারের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য:

১. ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।

২. ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রক্সিল আয়ন দেয়।

৩. ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।

৪. ক্ষার ফেনোফথ্যালিন দ্রবণে গোলাপী বর্ণ ধারণ করে।

৫. ক্ষার মিথাইল অরেঞ্জ দ্রবণে হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

৬. ক্ষার মিথাইল রেড দ্রবণে হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

৭. ক্ষারের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

৮. অধিকাংশ ধাতব লবণের জলীয় দ্রবণে ক্ষার মিশালে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ধাতুর হাইড্রক্সাইডের অধঃক্ষেপ বা তলানি পড়ে।

৯. ক্ষারের জলীয় দ্রবণ সাবানের মত পিচ্ছিল।

১০. ক্ষারের জলীয় দ্রবণ বিদ্যুৎ পরিবাহী।

১১. ক্ষার সাধারণত কষা বা কটু স্বাদযুক্ত হয়।


ক্ষারকের ব্যবহার: ক্ষারকের নানাবিধ ব্যবহারের মধ্যে কতিপয় নিম্নে উল্লেখ করা হল-

১. পানি পরিস্কারক ব্লিচিং পাউডার তৈরীতে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহার করা হয়।

২. ঘর-বাড়ি হোয়াইট ওয়াশ করতে  লাইম ওয়াটার ব্যবহার করা হয়।

৩. পোকমাকড় দমনে মিল্ক অফ লাইম ব্যবহার করা হয়।

৪. এন্টাসিড ঔষধ তৈরীতে মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া ব্যবহার করা হয়।

৫. সাবান তৈরীতে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহার করা হয়।


সোমবার, ৩ জুলাই, ২০২৩

অম্ল, ক্ষারক ও লবণ অধ্যায়ের ক্লাস লেকচার : পর্ব ১ এসিড অংশ

 অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দশম অধ্যায়ের নাম অম্ল, ক্ষারক ও লবণ। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ই অধ্যায়ের অম্ল বা এসিড অংশের ক্লাস লেকচার নিম্নে দেওয়া হলো। আশাকরি শিক্ষার্থীরা এগুলো ভালোকরে নোট করে রপ্ত করবে। 

পর্ব ২ এর লিংক

অম্ল বা এসিড: অম্লের ইংরেজি প্রতিশব্দ এসিড। টক স্বাদযুক্ত সব বস্তুর মধ্যেই এসিড থাকে। এসিডের সজ্ঞা দিতে গিয়ে আমরা বলতে পারি-“ যদি কোনো যৌগের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং ঐ প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেনকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপিত করা যায় এবং যা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে অম্ল বা এসিড বলে।”


এসিডের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য:

১. এসিডের অণুতে প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে।

২. ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলক দ্বারা হাইড্রোজেন প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।

৩. এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে।

৪. এসিড ফেনোফথ্যালিন দ্রবণে বর্ণহীন হয়ে যায়।

৫. এসিড মিথাইল অরেঞ্জ দ্রবণে লাল বর্ণ ধারণ করে।

৬. এসিড মিথাইল রেড দ্রবণে লাল বর্ণ ধারণ করে।

৭. এসিডের সাথে ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

৮. এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়।

৯. এসিড কার্বনেটযুক্ত লবণের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।


জৈব এসিড: ফলমূল বা শাকসবজিতে যে সকল এসিড থাকে তাদেরকে জৈব এসিড বলে।

মহাকাশ ও কৃত্রিম উপগ্রহ অধ্যায়ের ক্লাসলেকচার

খনিজ এসিড: প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানারকম খনিজ পদার্থ থেকে যে সকল এসিড তৈরী করা হয় তাদেরকে খনিজ এসিড বলে।


এসিডের ব্যবহার: মানব জীবনে এসিডের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু নিম্নে দেয়া হল।

১. জৈব এসিড আমাদের দেহের জন্য খুবই দরকারি। এগুলোর মধ্যে এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি এর অভাবে আমাদের স্কার্ভি নামক রোগ হতে পারে।

২. বিভিন্না প্রকার সার যেমন ইউরিয়া, পটাশ, ফসফেট প্রভৃতি তৈরীতে খনিজ শিল্প কারখানায় খনিজ এসিড ব্যবহার করা হয়।

৩. টয়লেট পরিস্কারক তৈরীতে এসিড ব্যবহৃত হয়।

৪. গহনা তৈরীতে স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করে।

৫. ব্যাটারি তৈরীতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়।

৬. সাপের উপদ্রব কমাতে কার্বোলিক এসিড ব্যবহার করা হয়।

৭. খাবার হজমের জন্য আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড তৈরী হয়।

৮. ডিটারজেন্ট, রং, কীটনাশক ও কাগজ শিল্পে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়।

৯. বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে ধাতু আহরণ ও রকেটে জ্বালনির সাথে নাইট্রিক এসিড ব্যবহৃত হয়।


মহাকাশ ও উপগ্রহ অধ্যায়ের ক্লাস লেকচার

 অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ অধ্যায় মহাকাশ ও উপগ্রহ এর গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা সমূহ নিম্নে প্রদান করা হলো। আশাকরি শিক্ষার্থীরা বাসায় নোট করে এ সংজ্ঞা গুলো আত্মস্থ করবে।



গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা সমূহ:

মহাবিশ্ব: ভৌত জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু মিলে যে জগত তাকে মহাবিশ্ব বলে।

নভোমণ্ডলিয় বস্তু: মহাবিশ্ব যে সকল বস্তুপিণ্ড দিয়ে গঠিত তাকে নভোমণ্ডলিয় বস্ত বলে।

মহাকাশ: নভোমণ্ডলিয় বস্তু সমূহ যে সিমাহীন ফাঁকা জায়াগায় অবস্থিত থাকে তাকে মহাকাশ বলে। অর্থাৎ মহাকাশ বলতে পদার্থের অনুপস্থিতিকে বোঝায়।

নক্ষত্র: যেসকল নভোমণ্ডলিয় বস্তুর নিজস্ব আলো ও উত্তাপ রয়েছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে। সূর্য এমন একটি নক্ষত্র।

গ্রহ: যেসকল নভোমণ্ডলিয় বস্তুর নিজস্ব আলো ও উত্তাপ নেই এবং যারা কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে একটি সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে তাদেরকে গ্রহ বলে। পৃথিবী একটি গ্রহ।

উপগ্রহ: যেসকল নভোমণ্ডলিয় বস্তু কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে তাদেরকে উপগ্রহ বলে।

গ্যালাক্সি: কয়েক হাজার কোটি গ্রহ, নক্ষত্রের একটি বৃহৎ সমাবেশ যা মহাকাশে গুচ্ছ আকারে অবস্থান করে তাকে গ্যালাক্সি বলে। সূর্য যে গ্যালাক্সির অন্তর্গত তার নাম মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।

আলোকবর্ষ: আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। মনে রাখতে হবে আলোকবর্ষ দূরত্ব পরিমাপের একক, সময় পরিমাপের নয়।

মহাবিস্ফোরণ তত্ব: মহাবস্ফিোরণ তত্ত্ব মহাবশ্বিরে উৎপত্তি সর্ম্পকে প্রদত্ত একটি বজ্ঞৈানকি তত্ত্ব। এই তত্ত্বরে অন্যতম বশৈষ্ট্যি হলো কোন ধারাবাহকি প্রক্রযি়ার পরর্বিতে একটি বিশেষ মুর্হূতে মহাবশ্বিরে উদ্ভব। এই তত্ত্ব বলে আজ থকেে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর র্পূবে এই মহাবশ্বি একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থকেে সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রথম বলনে, দূরর্বতী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রকিভাবে র্পযালোচনা করলে দখো যায় এরা পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে র্অথাৎ মহাবশ্বি ক্রমশ সম্প্রসারতি হচ্ছ। এই তত্ত্বসমূহের সাহায্যে অতীত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সমগ্র মহাবশ্বি একটি সুপ্রাচীন বিন্দু অবস্থা থেকে উৎপত্তি লাভ করছে। এই অবস্থায় সকল পর্দাথ এবং শক্তি অতি উত্তপ্ত এবং ঘন অবস্থায় ছিল। এর পর এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রথমে শক্তি ও পরে পর্দাথ উৎপন্ন হযে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং মহার্কষ বলের প্রভাবে র্পযায়ক্রমে ঘনীভূত হয়ে নক্ষত্র, গ্রহ ও উপগ্রহের সমন্বয়ে এই মহাবশ্বি গঠিত হয়।

কৃত্রিম উপগ্রহ: মানুষ নির্মিত যে সকল যন্ত্র বা মহাকাশ যান পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করে তাকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।

ভূস্থির উপগ্রহ: যদি কোনো উপগ্রহের আবর্তনকাল পৃথিবীর আহ্নিক গতির সমান হয় তবে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। তখন এ ধরণের উপগ্রকে ভূস্থির উপগ্রহ বলে।


রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩

ডিএনএ এর গঠন

DNA একপ্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড। এটি সজীব বস্তুর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য এক জনু থেকে অপর জনুতে এবং এক কোষ থেকে অন্য কোষে বহন করে। DNA সজীব বস্তুর যাবতীয় জৈবিক ক্রিয়াকলাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে; এক কথায় DNA হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক। DNA প্রধানত ক্রোমোসোমেই থাকে, তবে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, সেন্ট্রোসোম প্রভৃতি কোষীয় অঙ্গাণুর মধ্যে এমনকি সাইটোপ্লাজমের মধ্যে কিছু পরিমাণ DNA পাওয়া যায়।

DNA-এর সংজ্ঞা: সজীব কোষে অবস্থিত স্বপ্রজননশীল, পরিব্যক্তিক্ষম, সকল প্রকার জৈবিক কার্যের নিয়ন্ত্রক এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক যে নিউক্লিক অ্যাসিড তাকে DNA বলে ।



ওয়াটস ও ক্রিক

DNA এর ভৌত গঠন (Physical structure of DNA):

DNA এর ভৌত গঠন সম্পর্কে ওয়াটসন ও ক্রিক ১৯৫৩ সালে একটি মডেল প্রদান করেন। এটি হলো DNA ডাবল হেলিক্স মডেল এবং এ মডেল প্রস্তাবের জন্য তাঁরা ১৯৬৩ সালে আরেক বিজ্ঞানী, উইলকিন্স-সহ নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ওয়াটসন ও ক্রিক প্রদত্ত DNA অণুর গঠনশৈলী:

১৯৫৩ সালে বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্রিক DNA অণুর প্রতিকৃতির যে নক্সা (model) প্রণয়ন করেন, তার বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ।

DNA-র রাসায়নিক গঠন (Chemical structure of DNA)

DNA এক ধরনের রাসায়নিক জৈব যৌগ। এটি নিম্নলিখিত রাসায়নিক উপাদান সমন্বয়ে গঠিত-

ডিএনএ এর রাসায়নিক গঠন

i. একটি পেন্টোজ শর্করা (Pentose sugar) হিসেবে ডি-অক্সিরাইবোজ (deoxyribose)।

ii. একটি ফসফোরিক অ্যাসিড (Phosphoric acid) তথা ফসফেট গ্রুপ। এবং

iii. নাইট্রোজেন বেস (Nitrogen base) : DNA অণুতে দু'রকম নাইট্রোজেন বেস থাকে, যথা- পাইরিমিডিন এবং পিউরিন

(a) পাইরিমিডিনএটি একটি 'রিং নিয়ে গঠিত। DNA অণুতে সাইটোসিন এবং থাইমিন নামক দু'প্রকারের পাইরিমিডিন থাকে।

(b) পিউরিন-এটি দু'টি রিং নিয়ে গঠিত। DNA অণুতে অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন নামক দু'প্রকার পিউরিন থাকে।

পিউরিন ও পাইরিমিডিন বেস ডি-অক্সিরাইবোজের সঙ্গে রাসায়নিক লিংকেজ গঠন করে থাকে, যাকে নিউক্লিওসাইড বলে। নিউক্লিওসাইড ফসফোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠন করে। নিউক্লিওটাইড হলো DNA অণুর মূল কাঠামো। DNA অণুকে রাসায়নিক গুণগতভাবে নিউক্লিওটাইডের পলিমার বা পলিনিউক্লিওটাইড বলে।

DNA-র ভৌত গঠন (Physical structure of DNA)

১। দুটি বিপরীতমুখী পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পরস্পরের সাথে লোহার সিঁড়ির মতো ডানদিকে প্যাচানো আকৃতি ধারণ করে এবং একটি জোড় কুণ্ডলী বা ডাবল হেলিক্স (double helix) গঠন করে। এ সিঁড়ির দুদিকের হাতল নির্মিত হয় ডি-অক্সিরাইবোজ সুগার (S) ও ফসফেট (P) এর পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে এবং ধাপগুলো দুটি নাইট্রোজেন বেস (A = T, C = G) দিয়ে গঠিত।

ডিএনএ এর ভৌত গঠন
২। একটি নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৫ম কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত থাকলে অপর নিউক্লিওটাইডের সুগারের ৩য় কার্বন অণুর সাথে ফসফেট যুক্ত হয়। নাইট্রোজেন বেসটি সবসময় সুগারের ১ম কার্বনের সাথে যুক্ত থাকে।

৩। সিঁড়ির মতো প্যাচানো সূত্রদুটি একটি কাল্পনিক মধ্য অক্ষকে ঘিরে থাকে। সূত্রদুটি পরস্পরের সমান্তরালে কিন্তু বিপরীতমুখী হয়ে অবস্থান করে। অর্থাৎ একটি সূত্র ৫′→ মুখী এবং অন্যটি ৩′→ কার্বনমুখী অবস্থানে থাকে।

৪। বেসগুলো হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিঁড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে থাকে নাইট্রোজেন বেস। একটি সূত্রের গুয়ানিন অপর সূত্রের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় (GC) এবং একটি সূত্রের অ্যাডেনিন অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বড্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে (A=T)।

৫। হেলিক্সের ব্যাস ২০Å। দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে।

৬। একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাচ প্রতি ৩৪Å দূরত্বে সম্পন্ন হয়। প্যাচটি হয় ডান থেকে বাঁদিকে। দশ নিউক্লিওটাইড জোড়ের পর একেকটি প্যাঁচ সম্পন্ন হয়। প্রতি প্যাঁচে থাকে প্রায় ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড ।

৭। বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে ৩.৪Å (৩৪Å ÷১০=৩.৪Å) দূরত্বে অবস্থিত।

 

শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩

প্রতীক, সংকেত ও যোজনী


পদার্থে র গঠন : অণু, পরমাণু শীর্ষক লেখায় আমরা জেনেছি যে গঠন অনুসারে পৃথিবীর সকল পদার্থকে মৌলিক ও যৌগিক এ দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। এ পর্যন্ত মোট মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত মনে পড়ে কি? হ্যাঁ, ১১৮টি। মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার নাম পরমাণু বা অ্যাটম। মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে তার নাম অণু। একাধিক পরমাণুর সমন্বয়ে অণু গঠিত। এ লেখায় আমরা মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের প্রতীক, সংকেত এবং যোজনী সম্বন্ধে জানবো ।

প্রতীক

রসায়নবিদগণ মৌলের নামকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এ পদ্ধতিতে কোনো মৌলের পুরো নাম না লিখে ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের একটি বা দুইটি অক্ষর দিয়ে সংক্ষেপে মৌলটিকে প্রকাশ করা হয়। মৌলের পুরো নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলা হয়। যেমন হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N) ইত্যাদি ।

 

প্রতীক লেখার নিয়ম

১। সাধারণত মৌলিক পদার্থের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরটিকে বড় হরফে লিখে মৌলটির প্রতীকরূপে প্রকাশ করা হয়। যেমন-

ছক: মৌলের প্রতীক

ইংরেজি নাম

প্রতীক

ইংরেজি নাম

প্ৰতীক

হাইড্রোজেন

(Hydrogen)

H

সালফার

(Sulphur)

S

অক্সিজেন

(Oxygen)

O

বোরন

(Boron)

B

নাইট্রোজেন

(Nitrogen)

N

ফসফরাস

(Phosphorus)

P

কার্বন

(Carbon)

C

ইউরেনিয়াম

(Uranium)

U

ফ্লোরিন

(Flourine)

F

আয়োডিন

(Iodine)

I

 ২। দুই বা ততোধিক মৌলের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর একই হলে এগুলোর মধ্যে একটি মৌলের প্রতীক নামের প্রথম অক্ষরটি দিয়ে সূচিত করে অপর মৌলগুলোর জন্য প্রথম অক্ষরের সাথে উচ্চারণ ধ্বনিতে অপর যে অক্ষরটি প্রাধান্য পায় তাকে ছোট হরফে যোগ করে প্রতীক চিহ্ন লেখা হয় । যেমন-

ছক: বিভিন্ন মৌলের প্রতীক

মৌলের ইংরেজি নাম

প্রতীক

মৌলের ইংরেজি নাম

প্রতীক

কার্বন

(Carbon)

C

বোরন

(Boron)

B

ক্যালসিয়াম

(Calcium)

Ca

বেরিয়াম

(Barium)

Ba

কোবাল্ট

(Cobalt)

Co

বিসমাথ

(Bismuth)

Bi

ক্যাডমিয়াম

(Cadmium)

Cd

ব্রোমিন

(Bromin)

Br

ক্লোরিন

(Chlorine)

CI

বেরিলিয়াম

(Beryllium)

Be

 ৩। কতগুলো মৌলের প্রতীক মৌলের ল্যাটিন নামের প্রথম অক্ষর বা প্রথম দুই অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়, কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন-

ছক: বিভিন্ন মৌলের প্রতীক

ইংরেজী নাম/ ল্যাটিন নাম

প্রতীক

ইংরেজী নাম/ ল্যাটিন নাম

প্রতীক

সোডিয়াম

(Sodium) Natrium

Na

সিলভার

(Silver)

Argentum

Ag

পটাসিয়াম

(Potassium) Kalium

K

লেড

(Lead) Plumbum

Pb

 

কপার

(Copper) Cuprum

Cu

টিন

(Tin) Stannum

Sn

আয়রন

(Iron)

Ferrum

Fe

মার্কারী

(Mercury) Hydrargyrum

Hg

গোল্ড

(Gold)

Aurum

Au

 

 

 

 

প্রতীকের তাৎপর্য

(১) মৌলের প্রতীক মৌলিক পদার্থটির নাম সংক্ষেপে প্রকাশ করে। যেমন- হাইড্রোজেন H, অক্সিজেন O, সোডিয়াম Na দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

(২) মৌলের প্রতীক মৌলের একটি পরমাণুকে নির্দেশ করে যেমন- হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর পরিবর্তে H লেখা হয় । সেভাবে অক্সিজেনের একটি পরমাণুকে O, কার্বনের একটি পরমাণুকে C, সোডিয়ামের একটি পরমাণুকে Na ইত্যাদি দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

(৩) কোনো মৌলের প্রতীক ঐ মৌলের পারমাণবিক ভর প্রকাশ করে। যেমন- H দ্বারা ১ ভাগ ভরের হাইড্রোজেন এবং O দ্বারা ১৬ ভাগ ভরের অক্সিজেনকে প্রকাশ করা হয় ।

 

সংকেত

কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুর সংক্ষিপ্তরূপকে সংকেত বলা হয়। অর্থাৎ কোনো পদার্থের অণুতে কী কী মৌল আছে এবং প্রতিটি মৌলের কতটি পরমাণু আছে তার সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ পদার্থটির সংকেত বলে।

মৌলিক পদার্থের সংকেত

মৌলিক পদার্থের সংকেত লেখার সময় মৌলের প্রতীকের ডানদিকে একটু নিচে মৌলটির একটি অণুতে যে কয়টি পরমাণু আছে সেই সংখ্যাটি লিখে মৌলের সংকেত প্রকাশ করা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও ক্লোরিন এর প্রত্যেকটি অণুতে দুইটি করে পরমাণু আছে। অতএব এগুলোর সংকেত হল H2, O2, N 2, Cl2 । ওজোন, সালফার ও ফসফরাসের অণুর সংকেত যথাক্রমে O3, S6P4। আবার সোডিয়াম, পটাসিয়াম, কপার, হিলিয়াম, আর্গন প্রভৃতি মৌলের অণু ১টি করে পরমাণু দিয়ে গঠিত। তাদের সংকেত যথাক্রমে Na, K, Cu, HeAr। আবার অসংযুক্ত ও পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন কোনো মৌলের সংকেত প্রকাশ করতে হলে ঐ মৌলের প্রতীকের বাম পাশে পরমাণুর মোট সংখ্যা চিহ্ন বসাতে হয়। যেমন- 2H দ্বারা দুইটি অসংযুক্ত হাইড্রোজেন পরমাণু বুঝায় কিন্তু H2 দ্বারা হাইড্রোজেনের একটি অণু এর দুইটি পরমাণু দ্বারা গঠিত বুঝায়।

যৌগিক পদার্থের সংকেত

যৌগিক পদার্থের অণু একাধিক মৌলিক পদার্থের পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। অতএব এ অণুর মধ্যে পরমাণুগুলো এক রকমের নয়। যে যে মৌলের পরমাণু নিয়ে যৌগিক অণু গঠিত সেগুলোর প্রতীক পাশাপাশি লিখে প্রতিটি মৌলের পরমাণু সংখ্যা সেই প্রতীকের ডানে একটু নিচে লিখে যৌগের সংকেত সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়। যেমন, পানির একটি অণু হাইড্রোজেনের ২টি ও অক্সিজেনের ১ টি পরমাণু নিয়ে গঠিত; সুতরাং পানির অণুর সংকেত H2O। যৌগের অণুতে কোনো মৌলের ১টি পরমাণু থাকলে ঐ পরমাণুর প্রতীকের পাশে সংখ্যা চিহ্ন ১ লেখা হয় না। কারণ প্রতীক দ্বারা ১টি পরমাণু বুঝায়। তাই পানির অণুর সংকেত লেখার সময় অক্সিজেন প্রতীকের ডান পাশে এর পরমাণু সংখ্যাটি লেখা হয়নি।

 ছক: বিভিন্ন যৌগিক পদার্থের নাম ও সংকেত

যৌগিক পদার্থের নাম

অণুর সংকেত

কার্বন ডাইঅক্সাইড

CO2

অ্যামোনিয়া

NH3

সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ)

NaCl

জিঙ্ক অক্সাইড

ZnO

ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা চুনাপাথর

CaCO3

এবার উপরের সংকেতগুলো দেখে বলতো কোন মৌলের কতটি পরমাণু নিয়ে প্রতিটি যৌগ অণু গঠিত ?

সংকেতের তাৎপর্য : সংকেত থেকে পদার্থের গুণগত ও পরিমাণগত কয়েকটি তথ্য জানা যায়। যেমন-

গুণগত তথ্য

(i) সংকেত দ্বারা পদার্থটি কী তা বুঝা যায় যেমন- H2O দ্বারা পানি বুঝা যায় ।

(ii) সংকেত দ্বারা পদার্থটি কী কী মৌলের পরমাণু নিয়ে গঠিত তা জানা যায়। যেমন, NaCl দ্বারা বুঝা যায় যে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ও ক্লোরিন মৌল দ্বারা গঠিত।

 পরিমাণগত তথ্য

(i) সংকেত পদার্থের একটি অণুকে বুঝায়। যেমন- NaCl দ্বারা সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অণুকে বুঝায় ।

(ii) প্রতিটি মৌলের কোনটির কতটি পরমাণু নিয়ে পদার্থের অণুটি গঠিত তা সংকেত থেকে বুঝা যায়। যেমন, CO2 দ্বারা বুঝা যায় যে, কার্বন ডাইঅক্সাইড অণু একটি কার্বন ও দুইটি অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত ।

(iii) সংকেত দ্বারা পদার্থটির আণবিক ভর বুঝায়। আবার ঐ ভরের মধ্যে উপাদান মৌলগুলোর আপেক্ষিক ভরের অনুপাত কত তাও জানা যায় । CO2 থেকে জানা যায় কার্বন ডাইঅক্সাইডের আণবিক ভর, ১২ + (১৬ × ২) = ৪৪। এ ভরের মধ্যে কার্বন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত ১২: ৩২ বা ৩:৮।

ছক: প্রতীক ও সংকেতের পার্থক্য

সংকেত

প্রতীক

১। মৌলিক পদার্থের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রতীক দ্বারা প্রকাশ পায় ।

১। মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ সংকেত দ্বারা প্রকাশ পায় ।

২। প্রতীক মৌলের একটি পরমাণুকে নির্দেশ করে।

২। সংকেত পদার্থের একটি অণুকে নির্দেশ করে ।

৩। মৌলের প্রতীক ঐ মৌলের পারমাণবিক ভরকে প্রকাশ করে।

৩। সংকেত দ্বারা পদার্থের আণবিক ভর প্রকাশ পায় ।

৪। প্রতীকে কেবলমাত্র একটি মৌলের পরমাণু থাকে।

৪। কী কী মৌলের কতটি পরমাণু নিয়ে পদার্থের অণুটি গঠিত হয় তা সংকেত দ্বারা বোঝা যায় ।

যোজনীর ধারণা

আমরা জানি দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। অণুতে পরমাণুগুলো রাসায়নিক আসক্তি দ্বারা সংযুক্ত থাকে। পরমাণুগুলোর এ সংযুক্তি বিশৃঙ্খলভাবে ঘটে না বরং একটি নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। যখন দুই বা ততোধিক মৌল যুক্ত হয়ে একটি যৌগ গঠন করে তখন দেখা যায় একটি মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু অপর মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে যৌগটির অণু সৃষ্টি করেছে। যেমন, হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের সংকেত HCl, পানির সংকেত H2O, অ্যামোনিয়ার সংকেত NH3 এবং মিথেনের সংকেত CH4। এখন কথা হল এগুলোর সংকেত এমনটি হল কেন? এর উত্তরে দেখা যায় :

১। ক্লোরিনের ১টি পরমাণু হাইড্রোজেনের ১টি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ১ অণু হাইড্রোজেন ক্লোরাইড উৎপন্ন করেছে ।

২। অক্সিজেনের ১টি পরমাণু হাইড্রোজেনের ২টি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ১ অণু পানি উৎপন্ন করেছে।

৩। নাইট্রোজেনের ১টি পরমাণু হাইড্রোজেনের ৩টি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ১ অণু অ্যামোনিয়া তৈরি করেছে।

৪। কার্বনের ১টি পরমাণু হাইড্রোজেনের ৪টি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ১ অণু মিথেন তৈরি করেছে।

উপরের উদাহরণ থেকে দেখা যায় যে, ক্লোরিন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কার্বনের সাথে হাইড্রোজেনের যুক্ত হওয়ার সামর্থ্য বা ক্ষমতা এক নয়। কোনোটির বেশি আবার কোনোটির কম। এক পরমাণু ক্লোরিন এক পরমাণু হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়। সুতরাং হাইড্রোজেন ও ক্লোরিনের যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা উভয়ের সমান অর্থাৎ ১। পানির ক্ষেত্রে এক পরমাণু অক্সিজেন দুই পরমাণু হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয়। অর্থাৎ অক্সিজেনের যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা হাইড্রোজেনের ২ গুণ। অনুরূপভাবে অ্যামোনিয়ার ক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা হাইড্রোজেনের ৩ গুণ এবং মিথেনে কার্বনের যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা হাইড্রোজেনের ৪ গুণ। একটি মৌলের অন্য মৌলের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সামর্থকে যোজ্যতা বলে । কোনো মৌলের একটি পরমাণু যত সংখ্যক হাইড্রোজেনের পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় অথবা যত সংখ্যক হাইড্রোজেন পরমাণুকে অপসারিত করে সেই সংখ্যা দ্বারা ঐ মৌলের যোজ্যতা প্রকাশ করা হয়। হাইড্রোজেন পরমাণুর যোজ্যতাকে একক বা ১ ধরে অন্যান্য মৌলের যোজ্যতা নিরূপণ করা হয় । 

উপরের উদাহরণগুলোতে হাইড্রোজেন ক্লোরাইডে ক্লোরিনের যোজ্যতা ১, পানিতে অক্সিজেনের যোজ্যতা ২, অ্যামোনিয়ায় নাইট্রোজেনের যোজ্যতা ৩ এবং মিথেনে কার্বনের যোজ্যতা ৪। কোনো মৌলের যোজ্যতার পরিমাণ হল ঐ মৌলের একটি পরমাণু কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় অথবা কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুকে কোনো যৌগ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। মৌলের যোজ্যতা নির্ণয়ে হাইড্রোজেনের যোজ্যতাকে একক ধরা হয়। এর কারণ হল হাইড্রোজেনের যোজ্যতা সবচেয়ে কম। অর্থাৎ হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু অন্য কোনো মৌলের একাধিক পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে না [শুধুমাত্র হাইড্রোজয়িক এসিড (N3H) ছাড়া] ।

যৌগের সংকেত লেখার সময় আমাদেরকে মৌলের যোজনী সংখ্যা সম্পর্কে ভাবতে হবে। মৌলের যোজনীর সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলো একে অন্যের সাথে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। মৌলিক পদার্থের যোজনীকে আমরা এক একটি হাত বা আংটার সাথে তুলনা করতে পারি। যে মৌলের একটি হাত তার যোজনী হবে এক । তাই এক হাত বিশিষ্ট মৌলের একটি পরমাণু অপর কোনো এক হাত বিশিষ্ট একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হবে। হাইড্রোজেন এবং ক্লোরিন- উভয়েই এক হাত বিশিষ্ট মৌল। অর্থাৎ উভয়ের যোজনী এক। তাই এদেরকে আমরা যথাক্রমে এভাবে লিখতে পারি HCl। হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের সংকেত HCl। অক্সিজেনের যোজনী ২ অর্থাৎ অক্সিজেনের একটি পরমাণুর দুইটি হাত আছে। এ দুইটি হাত দিয়ে অক্সিজেন এক যোজী বা এক হাত বিশিষ্ট দুইটি হাইড্রোজেনের পরমাণুকে ধরতে পারে ।

পানি, অ্যামোনিয়া ও মিথেনের অণুকে নিম্নরূপভাবে দেখানো যেতে পারে ।

 

কোনো যৌগ গঠনের সময় সাধারণভাবে লক্ষ রাখতে হবে যেন মৌলের সবগুলো হাত বা যোজনী কাজে লাগে । 

ছক: কয়েকটি মৌল ও যৌগমূলকের যোজনী

 

যোজনী- ১

যোজনী - ২

যোজনী-৩

যোজনী - 8

অধাতু (মৌল)

হাইড্রোজেন (H) ফ্লোরিন (F)

ক্লোরিন (Cl)

ব্রোমিন (Br) আয়োডিন (I)

অক্সিজেন (O)

সালফার (S)

কার্বন (C)

নাইট্রোজেন (N) ফসফরাস (P)

কার্বন (C)

সালফার (S)

 

ধাতু (মৌল)

সোডিয়াম (Na)

পটাশিয়াম (K)

কপার (Cu) (আস)

সিলভার (Ag)

গোল্ড (Au) (আস)

 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ক্যালসিয়াম (Ca) আয়রন (Fe) (আস) কপার(Cu) (ইক)

জিঙ্ক (Zn)

টিন (Sn)

লেড (Pb)

অ্যালুমিনিয়াম (Al) আয়রন (Fe) (ইক)

গোল্ড (Au) (ইক)

টিন (Sn)

লেড (Pb)

যৌগমূলক

অ্যামোনিয়াম (NH4+ )

হাইড্রক্সিল (OH-)

নাইট্রাইট (NO2-)

নাইট্রেট (NO3-)

হাইড্রোজেন কার্বনেট (HCO3-)

 

কার্বনেট (CO32-) সালফাইট (SO32-) সালফেট (SO42-)

ফসফেট (PO43-)

 

উপরের ছক দেখে বল ক্যালসিয়ামের যোজনী কত? ক্যালসিয়ামের কয়টা হাত থাকবে? ক্লোরিন পরমাণুর যোজনী কত? ক্যালসিয়ামের যোজনী ২, অর্থাৎ ক্যালসিয়াম পরমাণুর ২টা হাত থাকবে। ক্লোরিন পরমাণু ১ যোজী। ক্যালসিয়াম ও ক্লোরিনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় গঠিত দ্রব্য ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত কী হবে? 

ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডের সংকেত হবে CaCl2

ক্যালসিয়াম ও অক্সিজেন উভয়ের যোজনী ২। তাহলে ক্যালসিয়াম অক্সাইডের সংকেতটি হবে Ca=O বা CaO, কার্বন ডাইঅক্সাইডের সংকেত CO2 । এ সংকেত থেকে কার্বন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়াটি হাতের সাহায্যে দেখিয়ে তাদের যোজনী বের করতে পারবে কি? হ্যাঁ এটাকে এভাবে দেখানো যায়; O = C = O বা CO2 । এখানে কার্বনের যোজনী ৪ এবং অক্সিজেনের যোজনী ২।

অনেক সময় একাধিক পরমাণু মিলে একটি পরমাণু গুচ্ছ গঠন করে এবং ঐ পরমাণু গুচ্ছ একটি পরমাণুর মত আচরণ করে। তোমরা সালফিউরিক এসিড H2SO4, কপার সালফেট CuSO4, ক্যালসিয়াম কার্বনেট CaCO3 এবং নাইট্রিক এসিড HNO3 এর কথা শুনে থাকবে। এ সব পদার্থের SO42-, CO32-, NO3- ইত্যাদি পরমাণু গুচ্ছ স্বাধীনভাবে থাকে না। মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ন্যায় যৌগ গঠনে অংশ নেয়। এ জাতীয় পরমাণু গুচ্ছকে যৌগমূলক বা র‍্যাডিকেল বলে।সালফেট SO42-, কার্বনেট CO32-, নাইট্রেট NO3 ইত্যাদি যৌগমূলকের উদাহরণ। সালফেট মূলকের যোজনী ২, কার্বনেট মূলকের যোজনী ২ এবং নাইট্রেট মূলকের যোজনী ১। অর্থাৎ সালফেট এবং কার্বনেট মূলকের দুইটি করে হাত এবং নাইট্রেট মূলকের ১টি হাত আছে । 


হাইড্রোজেন সালফেট বা সালফিউরিক এসিডের সংকেত,

 অনুরূপভাবে কপার সালফেটের সংকেত, Cu = SO4 বা CuSO4

ক্যালসিয়াম কার্বনেট যৌগে ক্যালসিয়ামের যোজনী ২ এবং কার্বনেটের যোজনী ২। অতএব ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সংকেত হবে Ca = CO3 বা CaCO3

আয়রন (III) সালফেটে আয়রনের যোজনী ৩। তাহলে আয়রন (III) সালফেটের সংকেত কী হবে ? Fe = SO4 লিখলে আয়রনের একটি হাত খালি থেকে যায়। যৌগ গঠনের সময় কোনো হাত খালি থাকলে চলবে না। তাহলে কী হবে? আরও একটি সালফেট মূলক যোগ দিলে সংকেতটি হবে :

এক্ষেত্রে SO4 যৌগমূলকের একটি হাত ফাঁকা থেকে যায়। যদি আর একটি আয়রন (III) পরমাণু এতে যোগ করা হয় তাহলে এর সংকেত হবে 

এখানেও আয়রন (III) পরমাণুর দুইটি হাত খালি থেকে যায়। তাহলে এবারে আরও একটি সালফেট মূলক যোগ করে তার সংকেত লেখা যায়-


এবারে আয়রণ (III) পরমাণু এবং SO4 যৌগমূলকের কোনো হাত খালি নেই। অতএব আয়রন (III) সালফেট যৌগের সংকেত Fe2(SO4)3 । 


এ অধ্যায়ে আমরা ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড CaCl2, ক্যালসিয়াম অক্সাইড CaO, পানি H2O, হাইড্রোক্লোরিক এসিড HCl, সালফিউরিক এসিড H2SO4, নাইট্রিক এসিড HNO3, কপার সালফেট CuSO4, আয়রন(III) সালফেট Fe2(SO4)3 ইত্যাদি যৌগগুলোর সংকেত লিখতে শিখেছি। এ সংকেতগুলো তোমরা লক্ষ করলে দেখতে পাবে যে, প্রত্যেকটির দুটো অংশ আছে। H, Ca, Cu, Fe ইত্যাদি ধনাত্মক অংশ এবং O, Cl, NO3, CO3, SO4 ইত্যাদি ঋনাত্মক অংশ বা মূলক। পরবর্তীতে রসায়ন বিজ্ঞান পাঠের সময় এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। সাধারণত যৌগ গঠনের সময় ধাতব অংশটি অপর একটি অধাতব অংশ বা অধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল একটি যৌগমূলকের সাথে যুক্ত হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধাতব মৌলগুলো পরস্পর যুক্ত হয়েও যৌগ গঠন করে। যেমন, H2O, HNO3 ইত্যাদি। উপরের ছকে অধাতু মৌল, ধাতু মৌল এবং র‍্যাডিকেল বা যৌগমূলকের প্রতীক এবং যোজনী দেওয়া আছে । এ ছক থেকে তোমরা নতুন নতুন যৌগ গঠন করতে চেষ্টা কর। তাহলে যোজনী সম্পর্কে তোমাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হবে এবং তোমরা আনন্দও পাবে। এক্ষেত্রে কয়েকটি যৌগের সংকেত লেখার চেষ্টা কর। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, সিলভার সালফেট, অ্যামোনিয়াম সালফেট ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট।

Class 8 : Science : Chapter 01: Classification of Animal World : MCQ test For The Mollusca Phylum

Mollusca Quiz - Mithun Sir Phylum Arthropoda Quiz Check Results ...