শনিবার, ১২ মে, ২০১৮

জীবন্ত জীবাশ্ম কী?


ছোটবেলায় “জীবন্ত জীবাশ্ম” শব্দটি আমাকে ভীষণ ঝামেলায় ফেলেছে। কারণ জীবাশ্ম বলতে না হয় মৃত জীব-জন্তুর হাড়-গোড়  বুঝায় বুঝলাম, কিন্তু জীবন্ত জীবাশ্ম আবার কিরে বাবা? একটি নড়া-চড়া করা, হেটে-চলে বেড়ানো হাড়-গোড়? অনেক ভেবেও এবং অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেও কোনো সদুত্তর পাইনি। পেয়েছিলাম বহু পর সম্ভবত উচ্চমাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান পড়তে গিয়ে। যারা আমার মত বিড়ম্বনায় পড়েছেন বা পড়েন নি তাদের জন্য আজ বলতে চাইছি জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে।

জীবাশ্ম কাকে বলে তাতো আপনারা জানেনই। গত পোস্টে এটা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। জীবাশ্ম বলতে বোঝায় এমন কোনো ছাপ বা চিহ্ন বা দেহাংশ যা কালের বিবর্তনে পাথরে পরিণত হয়ে গেছে, যা সাক্ষ্য দিচ্ছে এখানে একটি জীব ছিল এবং যাকে পরীক্ষা করে আমরা জীবটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারি তাকে জীবাশ্ম বলে।

আমারা জানি আমাদের পৃথিবীর এই বিচিত্র, বিপুল এবং বৈচিত্রময় জীবকূল আসলে উদ্ভূত হয়েছে তার পূর্ববর্তী জীবসম্প্রদায় থেকে প্রকৃতির নির্বচনের মাধ্যমে। সহজ কথায় যাকে আমরা বিবর্তন বলে জানি। পৃথিবীতে উদ্ভূত হওয়া জীবগোষ্ঠীর একটা বিশাল অংশ আবার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যাদের অস্তিত্ব আমরা ফসিলের মাধ্যমে জানতে পারি। কিন্তু তাদের বৈশিষ্ট্য, শরীরতত্ব, জীবনাচার প্রভৃতি বিষয়গুলো আসলে ফসিলের থেকে পাওয়া দুষ্কর এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রায় অসম্ভব। সেই সকল হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্ত প্রাণীদের সম্পর্কে জানার সবথেকে ভালো উপায় এমন সকল প্রানীদের সম্পর্কে জানা যাদের উৎপত্তি হয়েছে সেই বিলুপ্ত প্রাণী সাথে কিন্তু তারা বর্তমানেও অপরিবর্তিত বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীতে এখনো টিকে আছে। তাহলে টিকে থাকা প্রাণীদের সম্পর্কে জানলে বিলুপ্ত প্রাণীর সম্পর্কেও অনেক তথ্য জানতে পারি। এই টিকে থাকে প্র্রাণীটিকে বলা হয় জীবন্ত জীবাশ্ম।

যেমন ধরুন শিমপাঞ্জির এবং মানুষের উৎপত্তি এবং গঠন প্রায় কাছাকাছি। তাই শিমপাঞ্জি সম্পর্কে জানলে মানুষ সম্পর্কে অনেকটা জানা যায়। এখন কেনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনো কারণে মানুষ বিলুপ্ত হয়ে গেল এবং শিমপাঞ্জি টিকে থাকল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বা সামান্য পরিবর্তন সহ। এবার কয়েক লক্ষ বা কোটি বছর পর অন্য কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের একটি ফসিল পেল। তাহলে সে মানুষ সম্পর্কে সবথেকে ভালোভাবে জানতে পারবে একটি শিমপাঞ্জিকে গবেষণা করে। তখন শিমপাঞ্জিটি হবে তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম। প্রকৃতিতে আমরা এমন অনেক জীবন্ত জীবাশ্ম পাই যারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে কোনো বিবর্তন ছাড়াই পিৃথিবীতে টিকে আছে। সবথেকে পরিচিত লিভিং ফসিল বা জীবন্ত জীবাশ্ম হল কুমির যা প্রায় আট কোটি পঁয়ত্রিশ লক্ষ্ বছর পূর্বে আবির্ভূত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রয় অপরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের জীবনাচার থেকে বিজ্ঞানীরা সে সময়কালের অন্যান্য সরীসৃপদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) : সপ্তম অধ্যায় (নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ) এর নোট : পর্ব-০১ (সৃজনশীল)

প্রশ্ন-নিচের উদ্দীপক দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। (i) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র A ও B এর মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা কর। ...